জামালপুরে আদালত প্রাঙ্গণে নাশকতার মামলার বাদী মো. রাসেল হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনায় জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাসেল হোসেন, যিনি জামালপুর সদর উপজেলার লাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা, মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাতুল হুমায়রা, মাসুদ, সামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বুর, আমিনুর ইসলাম ওরফে ফকির ও আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এই হামলার ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাসেল হোসেন মেলান্দহ থানায় নাশকতার মামলা করেন।
মঙ্গলবার আদালতের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে রাসেল আদালতের প্রাঙ্গণে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আসামিরা হামলা চালায়। তারা রাসেলের গেঞ্জির কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ সময় জান্নাতুল হুমায়রাকে গ্রেপ্তার করেন।
মারধরের শিকার রাসেল জানান, মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আসামিরা তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলেন। হামলার সময় তাঁরা হত্যার হুমকি দেন। জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত, সেখানে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক।
জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, আদালতের নির্দেশে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আদালতে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।