বাংলাদেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই উদ্যোগের ফলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে ও বাল্যবিবাহসহ নানা অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্য হলো দেশের বিভিন্ন এলাকার বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা। এতে কোনো এলাকায় কতজনের বিয়ে হচ্ছে, সেই তথ্য সহজে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দেশে আইন রয়েছে এবং এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তা তুলে ধরতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইন নিবন্ধনের সুবিধা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, এটি তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে ঠেকাতে সহায়তা করবে। অনলাইনে পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দেখা যাবে, যা পরবর্তী বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার স্ত্রী বা সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্য প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, পর্যায়ক্রমে অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব তথ্য সংযুক্ত হলে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
গত বছরের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজ করার নির্দেশনা দিয়েছিল। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।