ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করা হলে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহাল করতে প্রস্তুত তেহরান।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাঘচি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে জাতিসংঘের পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্যও আলোচনা করেন।
তবে ইউরোপীয় দেশগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়, যা ‘স্ন্যাপব্যাক’ নামে পরিচিত।
ইরানের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা নির্দেশ করে।
গত সপ্তাহে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ায় ইরানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির রিয়ালের মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের কারণে গত মাসে ইরান কোনো অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে তুলতে পারেনি, ফলে দেশের তেল রফতানি কার্যক্রমেও চাপ পড়েছে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন মধ্যস্থতাকারী কর্মকর্তারা।