বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী হলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি উচ্চ আদালতে বেকসুর খালাসের আবেদন করেছেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের এই হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২৯ জন নিহত হয়।
বিচারিক আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেও হাইকোর্ট পরবর্তীতে শাস্তি কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আপিল বিভাগে তাদের খালাসের আবেদন এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ নিয়ে নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
২০১৯ সালে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তাদের শাস্তি কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।
মামলার অন্যতম আসামী আসলাম হোসেন ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে নিহত হন। অপর আসামী শরিফুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে জানান, হামলার জন্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতে ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল।
শরিফুলের বাবা দাবি করেছেন, মুম্বাই পুলিশ তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা সীমান্তে ডিজিএফআইয়ের হাতে তুলে দেয়। আসামীপক্ষের আইনজীবী আমিমুল এহসান জুবায়ের বলেন, 'যাদের বিচার হয়েছে, তাদের কেউ ঘটনাস্থলে ছিল না।'
এদিকে, নিহত রবিউলের ভাই শামসুজ্জামান শামস জানান, দ্রুত বিচার হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, জেএমবি'র অতি উগ্র অংশ নব্য জেএমবি হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছিল।