দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটি দুই বছর পরও চিকিৎসাসেবা শুরু করেনি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে ভবনটি বুঝে দিলেও বেশ কিছু কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
সরকার ২০১৯ সালে খুলনায় বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সোনাডাঙ্গা-বাইপাস সংযোগ সড়কের পাশে ময়ূরি আবাসিক এলাকার কাছে হাসপাতালের জন্য প্রায় ৪ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে ৫ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে।
২০২৩ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও ভবনটি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। চলতি বছরের জুনে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভবনটি খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতরের কাছে বুঝে দেওয়া হয়।
হাসপাতাল এলাকায় সীমানাপ্রাচীর ও গেটের অভাব রয়েছে। স্থাপন করা যন্ত্রপাতি ও ফিটিংসে মরিচা ধরেছে। রোগী কিংবা মরদেহ ওঠানামার জন্যও নেই কোনো র্যাম্প। গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাকি কাজ পরবর্তী পর্যায়ের প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গণপূর্ত বিভাগের শর্তে হাসপাতালটি বুঝে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বহিঃর্বিভাগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের সহকারী পরিচালক ডা. এসএম শাহরিয়ার বলেন, দ্রুত হাসপাতালটির উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন তারা।
খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, হাসপাতালের লিফট ও টাইলসের কাজসহ অন্যান্য কাজ এখনও চলছে। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, সহায়ক জনবল, যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিশুদের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা প্রয়োজন, যাতে তাদের ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে যেতে না হয়।