নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর, দেশের পর্যটন শিল্পে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে, লাখ লাখ মানুষ তাদের জীবিকা রক্ষায় সংগ্রাম করছে।
কাঠমান্ডুর ট্যুর প্ল্যানার ও ট্যাক্সি চালক পুষ্পরাজ রিমাল জানান, গত মাসে বন্যার কারণে ১,৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, "এখনও একটি লকডাউনের মতো পরিস্থিতি চলছে।"
নেপালের পর্যটন মৌসুম সাধারণত আগস্টে বর্ষার পর শুরু হয়, কিন্তু এই বছর বন্যার কারণে পর্যটকরা নিরাপদ এলাকাগুলো থেকেও দূরে সরে যাচ্ছেন। রিমাল বলেন, "আমি দুই মাসের জন্য দুটি গাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম, কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত মৌসুমের এক চতুর্থাংশ ব্যবসা করতে পেরেছি।"
৬১ বছর বয়সী সীতা নেপালি ও তার স্বামী রামাকান্ত নেপালি, কাঠমান্ডু থেকে পোকরা ও চিতওয়ান শহরের সাথে সংযুক্ত মহাসড়কে বাড়িতে তৈরি দই বিক্রি করেন। সীতা জানান, "বন্যার কারণে আমরা ১১ দিন কিছু বিক্রি করতে পারিনি।"
ব্রিটিশ নাগরিক আলেক্সা বলেন, "আমরা নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু বন্যার কারণে আমাদের trip বাতিল করতে হয়েছে।"
জাপানের এক পর্যটক জানান, "বন্যার পরিস্থিতি এবং পরিবেশ আমাদের জন্য বিপজ্জনক ছিল, তাই আমরা আমাদের ভ্রমণ বাতিল করেছি।"
ভারতের তাপস কুমার বলেন, "আমাদের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে এবং তিনি আমাদের নেপালে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই আমরা পোকরা বাতিল করে কাঠমান্ডুতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
নেপালের ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সূরেন্দ্র ঠাকুর জানান, "কিছু মানুষ নিরাপত্তা তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তবে আমরা চাই মানুষ জানুক, নেপাল খোলা এবং নিরাপদ।"
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের দূতাবাস ১১ সেপ্টেম্বর একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে বন্যার কারণে অনেক এলাকা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা কঠিন।