ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের দুই মাস পরও নেপালে দুর্ভোগ কমেনি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেপালের ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগবে। পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার।
২৬ আগস্ট হিমালয়ের চীন সীমান্তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিস্তীর্ণ জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই দুর্যোগে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও ধারাবাহিকভাবে ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলে আক্রান্ত হয় দেশটি।
এতে ছয় জেলার ১৭ পৌরসভায় প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং শত শত ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৩২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ত্রাণশিবিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘ প্রকল্প পরিষেবার নির্বাহী পরিচালক জর্জে মোরেইরা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের ৬০ কিলোমিটার বেশি এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। সেতু ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তারা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার জন্য তারা মোটেও দায়ী নয়।’
তিনি আরও বলেন, নেপাল চরম অবিচারের শিকার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, যাতে ধংসস্তুপ থেকে নেপালকে বাঁচানো যায়।