নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে শত শত ছবি টানানো হয়েছে। স্বজনরা প্রতিদিন সেখানে এসে প্রিয়জনের ছবি দেখে খোঁজ করেন।
গত ২৬ আগস্টের হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং ৪,২০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছে। দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।
হাসপাতালের দেয়ালে টানানো ছবির পাশে নিখোঁজের তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষার কথা লেখা রয়েছে। সাতি সিগদেল, যিনি নিখোঁজ চাচাতো বোন সুইটি পাইথানের সন্ধানে হাসপাতালে আসছেন, বলেন, “আমরা তার ছবি এখানে লাগিয়েছি, কিন্তু এখনো তার কোনো খোঁজ পাইনি।”
স্বজনরা হাসপাতালের দেয়ালের ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখছেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে নিখোঁজদের নাম উল্লেখ করে তথ্য জানতে চাইছেন। সপ্না নিউপানে, নিখোঁজ মামার পরিবারের সদস্য, বলেন, “আমরা একটি অলৌকিক ঘটনার আশায় আছি। এটি খুব কঠিন।”
ছবিগুলোর সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয়, বিস্তারিত তথ্য ও যোগাযোগের নম্বর রয়েছে। কিছু ছবির নিচে হাতে লেখা তথ্যও রয়েছে।
একদিকে, কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দিরে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যেখানে স্বজনরা নিখোঁজদের জন্য খড়ের তৈরি প্রতিকৃতি দাহ করছেন। তাপিন্দ্র প্রসাদ তিমালসিনা, ২১ বছর বয়সী সাবিনের সন্ধান না পেয়ে, এমন একটি প্রতিকৃতি দাহ করেন।
সিগদেল বলেন, “আমি প্রতিদিন এখানে আসি। আশা করি, কোনো না কোনো খবর পাব।”