বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, ১৭২ সড়ক বন্ধ

উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, ১৭২টি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।

উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, ১৭২ সড়ক বন্ধ

ভারতের উত্তরাখণ্ডে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে রাজ্যটিতে অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে।

উত্তরাখণ্ড রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানায়, লাগাতার বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে পিথোরাগড়, নৈনীতাল এবং বাগেশ্বরের দুটি জাতীয় মহাসড়কসহ মোট ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। টিহরীতে ৩৪ নম্বর এবং বাগেশ্বরে ১০৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বড় অংশ ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে গোলা নদী থেকে ২৭ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে হলদোয়ানী ও উধম সিংহ নগর এলাকায় তীব্র বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খকরা নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রশাসন দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।

দুর্যোগের ফলে পৌড়ীর কোটদ্বারে নদীর তোড়ে মা ও তার দেড় বছরের কন্যাসন্তান মারা গেছেন। অলমোড়ার হবালবাগে বসতবাড়ি ধসে নিহত হয়েছেন দুই নারী ও এক শিশু, এবং ধারের টুনি এলাকায় ধসের নিচে চাপা পড়ে দুই নেপালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৈনীতাল, চম্পাবত, উধম সিংহ নগর ও পিথোরাগড়ে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বারাণসীর ঐতিহাসিক ৮৪টি ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। চিত্রকূটের মন্দাকিনী নদী ফুঁসে ওঠায় আশপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৌসম ভবন জানায়, প্রতাপগড়ে ১৪৭ মিলিমিটার এবং সোনভদ্রে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজ্যের ২০টিরও বেশি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে ব্যাপক হড়পা বানের পূর্বাভাসও জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর। গরওয়া, পলামু, লাতেহার, সিমডেগা সহ ১০টি জেলায় এই সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন