বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ১ হাজার ১২৭, নিখোঁজ ৪ হাজার ৮০০

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ১ হাজার ১২৭, নিখোঁজ ৪ হাজার ৮০০।

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ১ হাজার ১২৭, নিখোঁজ ৪ হাজার ৮০০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৭ জনে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে ৪ হাজার ৮শর বেশি মানুষ। বুধবার নেপাল পুলিশের বরাতে কাঠমান্ডু পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, নেপালের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শক্তি জাপানের হিরোশিমায় আঘাত হানা পরমাণু বোমার চেয়েও বেশি। বন্যার ফলে তিব্বতে ১৬ জন নিহত এবং নিখোঁজ রয়েছে সাড়ে ৫শ।

বন্যা ও ভূমিধসের পর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের ১০ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। চিতওয়ানে পানিতে ভেসে আসা মরদেহ উদ্ধারে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র স্রোতের কারণে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমি বন্যার পানিতে মানুষের মরদেহ ভেসে যেতে দেখেছি। সেগুলো কিছুক্ষণের জন্য চোখে পড়ত, তারপর প্রবল স্রোতে আবার কোথায় যেন হারিয়ে যেত।”

রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকে আছেন। সেনাবাহিনীর থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভারত ও চীনের বিশেষায়িত টানেল রেসকিউ টিমের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, নেপালের ত্রিশুলিতে অন্তত আড়াই হাজার ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে। ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের স্যাটেলাইট ছবিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী জানিয়েছেন, হিমবাহ ধসে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন