যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধানে কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তেহরান নিজেদের অবস্থানের কথা জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তাদের শর্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন, "শর্ত পূরণ হলেই কেবল হরমুজ খুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, আলোচনাই বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চুক্তি করতে চাইছে, কারণ যুদ্ধে তারা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।"
তবে ট্রাম্প কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করছেন না। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে আশা করছেন।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ইরানকে জানায়নি। তিনি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত মতামত জানার অপেক্ষায় রয়েছে, এরপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান আমির হাতাম জানান, যুদ্ধ এখন একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, "বিদেশি শক্তিগুলো এই অঞ্চলের কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করবে, অথচ ইরান বাণিজ্য করতে পারবে না, এমন পরিস্থিতি তেহরান মেনে নেবে না।" রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, "ইরান যদি বাণিজ্য করতে না পারে এবং স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে না পারে, তাহলে কেউই বাণিজ্য করতে বা টিকে থাকতে পারবে না।"