হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (এইউভি) আটকের দাবি করেছে ইরান, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নাকচ করেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তাদের নৌবাহিনী উন্নত প্রযুক্তির একটি মার্কিন স্বয়ংক্রিয় ডুবযান আটক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র কাতারভিত্তিক রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, “সব ইউএভির ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইতিবাচক নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের ইরানি দাবি ‘স্পষ্টতই হতাশাজনক।’
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি শুধু উন্মুক্তই নয়, বরং সেখানে মার্কিন সাবমেরিন লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও আইআরজিসি নৌবাহিনী সক্রিয়। তিনি জানান, এটি আইআরজিসির ‘দ্বিতীয়বার’ কোনো মার্কিন ডুবযান আটকের ঘটনা।
মোহেবির ভাষ্য অনুযায়ী, আটক করা ডুবযানটি ‘এমকে ১৮ মড ২ কিংফিস’, যা অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থাসম্পন্ন একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবযান। এর মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, “এটি শুধু শিকার নয়; এটি গোয়েন্দা তথ্যের বিশাল সুযোগ।”
চলতি মাসের শুরুতে আইআরজিসি দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন মানববিহীন ডুবযান আটক করেছে। সেসময় ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক করা ডুবযানটি ‘ডাইভ-এলডি’, যা ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করে, “সন্ত্রাসী আমেরিকান বাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক, বুদ্ধিমান ও মানববিহীন সাবমেরিনগুলোর একটি” তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করেছে। ডুবযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানায়, একটি পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল। পেন্টাগনের মুখপাত্র বলেন, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানের সহায়তায় আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল, কিন্তু এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন, যা কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেনি এবং এতে কোনো রাডার সরঞ্জামও ছিল না।
তখন ইরানের পক্ষ থেকে ডুবযান আটকের যে দাবি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি পেন্টাগন।