ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জাতীয় সংসদ সদস্যদের নৈতিক স্খলনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কিশোরী মরিয়ম খাতুনকে যৌন ব্ল্যাকমেইল ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।
মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকায় টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটি আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে 'নৈতিক আচরণবিধি' প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে, সংসদ সদস্যদের জন্য মর্যাদাহানিকর অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ অব্যাহত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।'
তিনি আরও জানান, আদালত ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করবে, কিন্তু সংসদ সদস্যের নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের। টিআইবি আইনগত সীমারেখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গুরুতর নৈতিক স্খলনের ক্ষেত্রে পদ বাতিলের সুস্পষ্ট বিধান যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে সংসদে উত্থাপিত 'দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট বিল' আইনে পরিণত হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইন প্রণয়নে বিলম্ব কেন হচ্ছে, যদিও রাজনৈতিক দলগুলো আচরণবিধি ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের সুপারিশ করেছে।
টিআইবি অবিলম্বে সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক আচরণবিধি প্রণয়ন এবং একটি 'এথিক্স কমিটি' গঠনের দাবি জানিয়েছে।