বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি, যা ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে, সেটিকে বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে গবেষণা তথ্যকে ‘অসত্য’ আখ্যায়িত করার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। তারা দাবি করে, আরপিও ১৯৭২ এর নামমাত্র প্রতিপালনের মাধ্যমে নারীদের স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে দলের সর্বস্তরে নারীর অন্তর্ভুক্তি দাবি করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্বে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৩-২৫ সময়কালের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই, যা আরপিওর বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জামায়াতের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। তবে টিআইবি জানায়, গবেষণায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির নারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি থাকার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নেই। নারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হলেও, নেতৃত্বস্থানীয় পদে নারীদের অন্তর্ভুক্তি না হওয়াকে টিআইবি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত থেকে কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ নারী সদস্য থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে কোনো নারী সদস্যের মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে টিআইবি মনে করে। তারা জানায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে টিআইবির গবেষণালব্ধ তথ্যকে “অসত্য” বলা উচিত নয়।