বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

জামায়াতের নারীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে টিআইবির তীব্র সমালোচনা

জামায়াতে ইসলামের নারীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে টিআইবির সমালোচনা, আলাদা কমিটি গঠনকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলছে।

জামায়াতের নারীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে টিআইবির তীব্র সমালোচনা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা নিয়ে প্রদত্ত বিবৃতিকে বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

টিআইবি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানায়, জামায়াত নারীদের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে তাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি করেছে, যা তারা ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ২০২৩-২৫ মেয়াদের ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

টিআইবির গবেষণায় ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

এদিকে, টিআইবি জানায়, গবেষণায় জাতীয় বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে জামায়াতের দাবি করা নারী সদস্যদের সংখ্যা গবেষণার বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়।

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামের গঠনতন্ত্রে প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি এবং কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই।

সংস্থাটি উল্লেখ করে, নারীদের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করলেই তাদের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। বরং এটি নারীদের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনে নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, যদিও তাদের দাবি অনুযায়ী সদস্যদের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী।

টিআইবি জামায়াতে ইসলামের গঠনতন্ত্রের কিছু ধারার সমালোচনাও করেছে, যা সংবিধানের জনগণের সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংস্থাটি জামায়াতে ইসলামীকে গবেষণার ফলাফল অস্বীকার করা এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দলের প্রকৃত রাজনৈতিক চর্চাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেছে। তবে গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করায় জামায়াতে ইসলামীকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

এছাড়া, টিআইবি জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন