রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদঘাটনে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও পুলিশি বক্তব্যে ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী ও ছেলে আয়ুশের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলামত নষ্টের অভিযোগও উঠেছে।
বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। আইনজীবী মো. আব্দুল মোকছেত বাহলুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি শ্রেণি অরাজকতার পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করতে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই বলেন, সঠিক আসামি খুঁজে বের করা ও সঠিক বিচার হওয়া তার একমাত্র কাম্য। রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম বুলেট জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে নারাজি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা জানান, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, আসামিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন।