বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

রংপুরে আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে মারামারি, উত্তেজনা ছড়াল

রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে মারামারি, উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

রংপুরে আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে মারামারি, উত্তেজনা ছড়াল

ভোটাধিকার হরণসহ আইনজীবী সমিতির কালাকানুন বাতিলের দাবিতে রংপুর আদালত চত্বরে নতুন আইনজীবীদের সাথে সমিতির সদস্যদের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নতুন আইনজীবীরা অতিরিক্ত ফি আদায় ও ভোটাধিকার না রাখার মুচলেকা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ১টার দিকে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন নতুন আইনজীবীদের ভর্তি করার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

বেলা ৩টার দিকে সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব নতুন আইনজীবীদের ভর্তি বন্ধ করার ঘোষণা দেন, যা আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভে যোগ দেন এবং সমিতিকে আওয়ামী দালাল মুক্ত করার দাবি জানান।

এসময় নতুন আইনজীবী জেবুন্নেসা জেবু সমিতির কার্য নির্বাহী সদস্য সিধাংশুকে ডাকলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে ধাক্কা দেন। এর প্রতিবাদে নতুন আইনজীবীরা সিধাংশুকে ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রংপুর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। নতুন আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে সমিতি মুচলেকা ছাড়াই ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে।

নতুন আইনজীবী জেবুন্নেসা জানান, তিনি হামলার শিকার হয়েছেন এবং এর বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, "আমরা ভোটাধিকার হরণের মুচলেকা দেবো না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।"

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন জানান, নতুন আইনজীবীদের আন্দোলনের পর তিনি ভোটাধিকার সংক্রান্ত মুচলেকা বাদ দিয়ে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন।

রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব বলেন, "আমি নতুন আইনজীবীদের ধাক্কা মারার বিষয়ে কিছু জানি না।"

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু জানান, নতুন ও পুরোনো আইনজীবীদের আন্দোলন সমিতির কালাকানুনের বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালে বার কাউন্সিল থেকে ১০৮ জন নতুন আইনজীবী রংপুর থেকে লাইসেন্সভুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন