রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদক সেবনের অস্তিত্ব না মেলায় নতুন প্রশ্ন উঠেছে। নিহতদের স্বজন ও মামলার বাদীপক্ষ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, 'ডোপ টেস্টে আসামিদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়ার ফলে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কিনা, সেটি গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার।' তিনি দাবি করেন, মাদক সেবন করে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সময়ে আসামিরা নেশাগ্রস্ত থাকার কথা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আদালত আসামিদের তিন দিনের মধ্যে ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একটি টিম জেল গেটে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামীকালও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, 'এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড এই দুই যুবকের পক্ষে সম্ভব কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।'
নিহতের ভাতিজি বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, 'ডোপ টেস্টের ফলাফল তদন্তের আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরালো করেছে।' তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করা দরকার।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলগেট থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'এমফিটামিন সাধারণত মূত্রে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত উপস্থিত থাকে।'
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।