রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ জানান, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’
গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, ছেলে আয়ুশ ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দেন। তবে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফলাফল দিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে। চার খুনের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।