দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তোলা একটি ছবি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একসঙ্গে দেখা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবি শুধু সৌজন্য বিনিময়ের চিত্র নয়, বরং এটি তিন শক্তিধর দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মোদির সঙ্গে হাত মেলানো পুতিন ও শি, প্রতিবেশী তিন দেশের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তবে ছবিটির তাৎপর্য বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত, চীন ও রাশিয়ার একসঙ্গে উপস্থিতি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ছবিটির গুরুত্ব বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ব্রিকস জোট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এই অবস্থায় মোদি, জিনপিং ও পুতিনের একসঙ্গে দাঁড়ানোকে পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে বিকল্প শক্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও তিন দেশের স্বার্থ ও নীতিতে পার্থক্য রয়েছে, তবু অর্থনীতি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মোদি পরপর দুই দিনে তিন নেতার ছবি প্রকাশ করেছেন, যা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
গত শুক্রবার মোদি-পুতিন এবং শনিবার মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যে তিন নেতার একসঙ্গে হাত মেলানোর এই ছবি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।