ভারত ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন দুই দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, "দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিন্ন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেইজিং সবসময় কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে দেখেছে।
এদিকে মোদি বলেন, "ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সফর শুধুমাত্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রচেষ্টা নয়, বরং এটি বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের ভাগ্য এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ভারত চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও সীমান্ত সংঘর্ষ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে চীনা অস্ত্র ব্যবহারের মতো জটিল বিষয়গুলো এখনও বিদ্যমান।
বিশ্লেষকরা কৌশলগত ঘাটতি এবং কাঠামোগত পার্থক্যকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে আলোচনার মাধ্যমে আস্থার সংকট কাটাতে হবে।
এছাড়া, মার্কিন প্রভাবের বলয় থেকে মুক্ত হতে এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরি বলেও মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।