শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ক্ষমতার নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হবে।

ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা

ভারতের নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ অন্যান্য উদীয়মান শক্তিধর দেশের নেতারা।

ব্রিকসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটে প্রথমে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন ছিল, পরে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হয়। সম্প্রতি নতুন সদস্য হিসেবে সৌদি আরব, মিশর, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়ে ব্রিকস প্লাস গঠন করেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকস দেশগুলোর প্রভাব রয়েছে, কিন্তু তারা মনে করে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয়। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজন কুমার বলেন, “ব্রিকস সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা একত্রিত হচ্ছেন, যা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রিকস দেশগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আধিপত্যের বাইরে একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম গড়তে চাইছে। তবে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ভিন্নতা ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের সীমান্ত সমস্যা ঐক্যমতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জয়তি ঘোষ বলেন, “ব্রিকসকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি বিশ্বে বিকল্প অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।”

এখনো পর্যন্ত ব্রিকস পশ্চিমা জোটের বিকল্প হয়ে উঠেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উদীয়মান শক্তিগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে ব্রিকস ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে, এই সম্মেলনটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন