ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ পেরিমে পৌঁছেছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রের ভিত্তিতে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারি বাহিনী পেরিম দ্বীপ থেকে সরে যাওয়ার পর হুতিরা ধুবাব শহরও দখল করেছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে এসব এলাকা দখল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কৌশলগত শহর মোকা এবং লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হুতিরা যদি পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বড় কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগরীয় নৌপথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মে মাসের পর প্রথমবারের মতো এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে শুক্রবার দাম সামান্য কমেছে।
হুতিদের দখলে যাওয়া এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক করেছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের দাবি, হুতিদের অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সরাসরি দিকনির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরব ইয়েমেনে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধের পরও ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাময়িক সমঝোতার উদ্যোগ চলছে। ওমান ও ইরানের উদ্যোগে এ বিষয়ে আলোচনা হতে যাচ্ছে।