শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

৯/১১ হামলার ২৫ বছর: ইতিহাসের শিক্ষা ও পরিবর্তন

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি, ইতিহাসের শিক্ষা ও পরিবর্তনের আলোচনা।

৯/১১ হামলার ২৫ বছর: ইতিহাসের শিক্ষা ও পরিবর্তন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দিন। ওইদিন, আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে, ফলে টাওয়ার দুটি ধ্বংস হয়ে যায়। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে এবং চতুর্থটি পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা প্রান্তরে বিধ্বস্ত হয়। এই হামলায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৯৭৭ জন নিরীহ মানুষ।

আজ, এই নারকীয় ট্র্যাজেডির ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই একটি দিনের ঘটনা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই বদলে দেয়নি, বরং বিশ্বরাজনীতি, সামরিক নীতি এবং গোয়েন্দা কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। হামলার মাত্র নয় দিন পর, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। এর ফলস্বরূপ, ২০০১ সালের শেষভাগে আফগানিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।

২০০৩ সালে শুরু হয় বিতর্কিত ইরাক আগ্রাসন। পরবর্তী দুই দশকে এই দীর্ঘ যুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং নজরদারি বৃদ্ধির ফলে মানবাধিকারের প্রশ্নে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। হামলার পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতা অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। সিআইএ এবং এফবিআইয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে হামলাটি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এই ঘাটতি পূরণের জন্য ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি) এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পদ তৈরি করে মার্কিন গোয়েন্দা কাঠামোকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। বর্তমানে, সন্ত্রাসবাদ দমনের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ রাশিয়া ও চীন কেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরে যাওয়ায় অনেকেই সমন্বয়হীনতার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি দেখছেন।

৯/১১ হামলার ২৫ বছরের পঁচিশ বছর পূর্তিতে, এই ঘটনার মূল শিক্ষা আজও স্পষ্ট—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল গোয়েন্দা তথ্য থাকা যথেষ্ট নয়; সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের মূল্যায়ন ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন