২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এই হামলার ফলে এভিয়েশন এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ATSA) প্রবর্তিত হয়, যা বিমানযাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা চেক বাধ্যতামূলক করে।
হামলার সময়, আল-কায়েদার সাথে যুক্ত সন্ত্রাসীরা চারটি বিমান হাইজ্যাক করে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনের উপর আক্রমণ চালায়, যা প্রায় ৩,০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটায়। হামলার পরপরই, যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত বিমান চলাচল স্থগিত করা হয় এবং কানাডার আকাশসীমাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হয় এবং তাদের লাগেজও নিরাপত্তা চেকের মধ্যে পড়ে। বিমানচালকদের জন্যও নতুন নিয়ম চালু হয়, যা তাদেরকে হাতিয়ার বহনের অনুমতি দেয়।
এরপর, বিমানযাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা চেক আরও কঠোর করা হয়, যেমন জুতা খুলে নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করা এবং ধারালো বস্তু বহন নিষিদ্ধ করা। ২০০৬ সালে তরল পদার্থের বহন নিষিদ্ধ করা হয়, যা পরে ১০০ মিলিলিটার সীমার মধ্যে শিথিল করা হয়।
বর্তমানে, বিমানের ককপিটের দরজাগুলোকে বলপ্রতিরোধী উপকরণ দিয়ে তৈরি করা বাধ্যতামূলক এবং এটি অভ্যন্তর থেকে লক করা থাকে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন ফুল-বডি স্ক্যানার এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যারও বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ হয়ে উঠেছে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে।