আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) বাংলাদেশে নিজেদের সেল বা ক্ষুদ্র সাংগঠনিক ইউনিট গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, একিউআইএস এখন আর কেবল একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। তারা বড় কোনো একক ইউনিট তৈরি না করে নিজেদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বিকেন্দ্রীভূত ছোট দল বা ‘সেল’ গঠন করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে এবং এখানে নতুন সেল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একিউআইএস বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে লজিস্টিকস এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভারতের দিল্লির লাল কেল্লায় সংঘটিত গাড়ি বোমা হামলার উদাহরণ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় ১১ জন নিহত হন। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন উমর উন-নবী, যিনি হামলায় নিহত হন।
আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো গোষ্ঠীগুলো রাসায়নিক ও জৈবঅস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সদস্যদের রাসায়নিক বিষ ও জৈব উপাদান তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, একিউআইএস-এর শীর্ষ নেতারা বর্তমানে আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছেন। তাদের আফগান জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে, যা তালেবান সরকারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
পাকিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ (আইএমপি)-এর মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে একিউআইএস। গত ৯ মে পাকিস্তানের বান্নুতে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় ২১ জন নিহত হন, যার পেছনে এই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে জাতিসংঘের সংস্থাটি জানায়, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তজুড়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তালেবান সরকার প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী দলকে আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, তাদের তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও একিউআইএস-কে দেওয়া পরোক্ষ সমর্থন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।