মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ সংকটের পর এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মক্কা চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই কাঠামোটি ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছে এই চুক্তি। যদিও এটি বোঝাচ্ছে না যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক ছিন্ন করছে, তবে রিয়াদের একাধিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক তৈরি করার উদ্দেশ্য রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় ধরণের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরানের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
এছাড়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা, আর তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে।
এই তিন দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোড়দার হলে লাভবান হবে চীনও। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চীনা অস্ত্রের বড় আমদানিকারক। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে চীনা অস্ত্র ও প্রযুক্তির প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা সামরিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে।