মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর একচেটিয়া নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মক্কা চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই কাঠামোকে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে, এর মানে এই নয় যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক ছিন্ন করছে। বরং এটি ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একাধিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানের রয়েছে বিশাল সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা, আর তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে। এই তিন দেশ মিলে সামরিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চীনা অস্ত্রের বড় ব্যবহারকারী। জেএফ-সেভেনটিন যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন চীনা সামরিক প্রযুক্তি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অংশ। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে, চীনা অস্ত্র ও প্রযুক্তির সৌদি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।