মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত চুক্তিতে সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামের এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো— তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। সৌদি আরবও ইরান ও তাদের মিত্র হুথিদের হামলার আশঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আলোচনা নতুন নয়; ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলা ও গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর আলোচনা জোরদার হয়।
চুক্তির প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের ১৯ মার্চ রিয়াদে ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিন দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর ব্যবস্থার বাইরে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। তুরস্কের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প, সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি একে অপরের পরিপূরক। তবে, এটি ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোট নয়, বরং সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয়ের একটি কাঠামো।
চুক্তি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে ইরানের এমপি ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সৌদিদের বুঝতে হবে যে কাগজ-কলমের চুক্তি তাদের নিরাপত্তা এনে দেবে না।
অন্যদিকে, ইসরায়েলও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। প্রয়োজনে অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও এর দরজা খোলা থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিতে পারে। এই উদ্যোগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত সক্ষমতাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্য রয়েছে।