ইউরোপের সীমান্তমুক্ত চলাচলের প্রতীক শেনজেন ব্যবস্থা আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে। অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে বিরোধ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতির বিতর্কে ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপের অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি ইতালি থেকে আসা সব ধরনের আকাশ ও সমুদ্রপথের যাত্রায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে স্পেন। মরক্কো থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সিউটায় প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশের পর ইতালি শেনজেন চুক্তির আওতায় সীমান্তমুক্ত চলাচল ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
স্পেনের এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ইতালি কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে বিরোধ এখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভাজন দেখা দিয়েছে ইউরোপের অভিবাসন নীতিতেও। স্পেন মানবিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে ইতালি কঠোর নীতির পক্ষে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে তুলে ধরছে। সীমান্তবর্তী দেশগুলো অভিবাসনের চাপ সামলালেও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
সিউটার অভিবাসী সংকট মোকাবিলায় মাদ্রিদ অভিভাবকহীন শিশুদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বর্তমানে সিউটার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি শিশু অবস্থান করছে।
শেনজেন ব্যবস্থা ইউরোপের অবাধ চলাচলের অন্যতম ভিত্তি হলেও নিরাপত্তা ও অভিবাসন সংকটের সময় এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। স্পেন ও ইতালির বর্তমান বিরোধ তাই ইউরোপের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।