বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার হুমকি, রোনালদোও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

বিশ্বকাপে মেসি ও রোনালদোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার।

বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার হুমকি, রোনালদোও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

মার্কিন পুলিশের একটি নিরাপত্তা নথি ফাঁস হওয়ার পর জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে ফুটবল তারকা, রেফারি ও দলগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ ও স্প্যানিশ একটি ওয়েবসাইটের বরাতে গোল ডটকম জানায়, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ছিলেন এসব হুমকির অন্যতম লক্ষ্য।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে স্টেডিয়ামে হামলার হুমকি দেন। তিনি জানান, দুই সহযোগীসহ মাঠে ঢুকে পুলিশ ও খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।

মেসির বিরুদ্ধে হামলার হুমকি আসে আর্জেন্টিনা ও মিসরের রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচের আগেও। এক সন্দেহভাজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাবেন।

পুলিশকে আরও একটি ফোনে জানানো হয় যে, গ্যালারির আবর্জনার পাত্রে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। এক ফিফা কর্মকর্তা পুলিশকে জানান, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন।

ম্যাচ কর্মকর্তারাও হামলার শিকার হন। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে ৬ হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডকে পাস না দেওয়ার কারণে নরওয়ের আলেকজান্ডার সোরলথ ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার জন হামিন্তন কাম্পাজও পেনাল্টি মিস করার পর একই ধরনের হুমকি পান।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার হত্যার ঘটনা নতুন করে সামনে আসে।

ফ্রান্সের কাছে হারের পর প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম লেখা কুশপুত্তলিকা পোড়ান এবং তাকে বর্ণবাদী স্লোগানের শিকার হতে হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম সুরক্ষিত আসর। নিরাপত্তা কর্মীরা এসব হুমকি কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু আয়োজন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন