মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের শুরুতে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে তার সুর পাল্টে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুর সময় ট্রাম্পের বার্তা ছিল ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’, কিন্তু এখন আমেরিকা আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমেরিকা শুরুতে আত্মসমর্পণ চেয়েছিল, কিন্তু এখন তারা আলোচনার জন্য মিনতি করছে।”
এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে ফেলেছে এবং জলপথটির ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ তাদের হাতে রয়েছে। তবে তেহরানের বক্তব্য ভিন্ন। ইরান বলছে, হরমুজে নিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান।
যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে আরও বিস্তৃত অঞ্চলে। ইয়েমেনের ইরানপন্থী সামরিক গোষ্ঠীগুলোর হামলায় চারজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ইরাকের এরবিলের কাছে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান সামরিক চাপের মুখেও টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকে ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা চাপের মুখে ভেঙে পড়েনি।”
এখন ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে, যা যুদ্ধের মধ্যেও কূটনীতির একটি নতুন দিক উন্মোচন করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, এই আলোচনা উন্নত পর্যায়ে রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হরমুজের ‘১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ’ আমেরিকার হাতে থাকলে আলোচনার প্রয়োজন কেন? যুদ্ধের শুরুতে আত্মসমর্পণ চাওয়া পক্ষ এখন কেন আলোচনা করতে চাইছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আগামী পদক্ষেপে পাওয়া যাবে, যা বিশ্বকে জানিয়ে দেবে কে শর্ত দেবে এবং কে শর্ত মেনে আলোচনা করবে।