মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথগুলো বর্তমানে যুদ্ধের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির শিকার। ইরানের কারণে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি এবং ইয়েমেনের কাছে বাব আল-মান্দাবে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এই হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন জাহাজের ক্রু এবং দুজন ইয়েমেনের সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সদস্য।
এই হামলাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ইয়েমেনের কাছে সাম্প্রতিক সংঘাতের নতুন পর্যায়ে প্রথম নিশ্চিত প্রাণহানির ঘটনা। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং এই পরিস্থিতি ইয়েমেনের দক্ষিণ প্রান্তের বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে নজর আকর্ষণ করেছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করে, যা সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবেও কাজ করে। তবে এই পথেও হামলার ঘটনা ঘটলে, একটি বন্ধ সমুদ্রপথের বিকল্প আরেকটি পথও নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। মঙ্গলবার ওমান উপসাগরে একটি পানামার পতাকাবাহী জাহাজকে থামানোর চেষ্টা করা হয়, যেখানে মার্কিন হেলিকপ্টার জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তারা ইতিমধ্যে ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর কেবল একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংঘাত নয়, বরং এর প্রভাব সমুদ্রপথে ছড়িয়ে পড়ছে। হরমুজ বন্ধ, বাব আল-মান্দাবে হামলা এবং ওমান উপসাগরে মার্কিন অভিযান—এই সবই সমুদ্রপথগুলোকে অশান্ত করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ যত অশান্ত হবে, ততই জ্বালানি, পণ্য ও বাণিজ্যের নিরাপদ চলাচল কঠিন হবে। এই অবস্থায়, মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রের দিকে তাকালে যুদ্ধের ছায়া স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।