মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই বিপাকে পড়ছে। ইরানের দখল থেকে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সুরক্ষিত রাখা।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ব্যয় ও ব্যাপক সামরিক ক্ষতির মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব। বাব আল-মান্দেব প্রণালি উত্তর-পূর্ব ইয়েমেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।
মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া এই সরু জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে, কারণ সৌদি আরবসহ অনেক দেশ তাদের তেল রপ্তানির জন্য এই পথটিকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রণালির দখল হারানো একটি বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, হরমুজ ইস্যুতে ইরানের কাছে ধরাশায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাব আল-মান্দেবের মত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দখল হারানোর ধাক্কা সামলাতে পারবে না।
বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ তেল ও ১০ শতাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। বাব আল-মান্দেব বন্ধ হলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরের এই পথে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে একটি 'দুঃস্বপ্ন' হিসেবে বর্ণনা করছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ কেন্ডাল বলেছেন, "দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ একই সাথে বন্ধ হলে ইউরোপের বাণিজ্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।"