বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

কাতারের আহ্বান: উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তায় স্বনির্ভরতার প্রয়োজন

কাতার বলেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তার জন্য স্বনির্ভর হতে হবে।

কাতারের আহ্বান: উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তায় স্বনির্ভরতার প্রয়োজন

কাতার জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামে এ মন্তব্য করেন।

মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মনির্ভরশীলতা অপরিহার্য।

কাতার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দেশটি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, বিশেষ করে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। সংঘাত চলাকালীন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কাতারের সামরিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাত এখন অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধের চাপ বাড়াচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের একটি নৌপথ। এ কারণে, এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কাতার কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেন।

এমন পরিস্থিতিতে, কাতারের আহ্বানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন