বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে জাহাজের জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির অভাব বিশ্ববাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জাহাজের জ্বালানি সংকট বেড়েছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমে গিয়ে গড়ে ৪৪৭,০০০ ব্যারেল প্রতিদিনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস জানিয়েছে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জ্বালানি তেলের বাজারে ২১৮,০০০ ব্যারেল প্রতিদিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবহন করে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রেড সি ও বাব আল-ম্যান্ডেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে আক্রমণ চালিয়েছে, যা সরবরাহের রুটকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধও তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার কয়েকটি প্রধান রিফাইনারিতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার তেল রপ্তানি আগস্টে রেকর্ড নিম্নে ৫৯১,০০০ ব্যারেল প্রতিদিনে পৌঁছেছে।
জাহাজের জ্বালানি সংকটের আরেকটি কারণ হলো জ্বালানি উৎপাদকরা অধিক লাভজনক পণ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ করছে। উদাহরণস্বরূপ, নাইজেরিয়ার ডাঙ্গোটে রিফাইনারি ডিজেল ও পেট্রোলের রপ্তানি বাড়িয়েছে, কিন্তু জ্বালানি তেলের রপ্তানি কমেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম বাঙ্কার কেন্দ্র সিঙ্গাপুরের জ্বালানি তেলের আমদানি ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে, যার ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি মেট্রিক টনে ৮২৫ ডলার হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি হাজারো আন্তঃনির্ভরশীল সরবরাহ চেইনের উপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং জাহাজের জ্বালানি সংকট এই চেইনগুলোকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।