উত্তর কোরিয়া নতুন একটি পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন ডেস্ট্রয়ার নৌবহরে যুক্ত করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। ৫ হাজার টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটির নাম ‘ক্যাং কন’ এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় ওয়ানসানে কমিশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, তার স্ত্রী রি সল-জু এবং মেয়ে জু-এ। কিম জং উন নতুন ডেস্ট্রয়ারটিকে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধজাহাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শত্রুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
তিনি দেশের নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে’ পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কিম বলেন, সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা এবং যুদ্ধ প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য নৌবাহিনীকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
‘ক্যাং-কন’ ডেস্ট্রয়ারটি পূর্ব সাগর বহরে যুক্ত হয়েছে। এর কমিশনিংয়ের একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হবে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এসব মহড়াকে ‘যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।
এই নতুন ডেস্ট্রয়ার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মাত্র তিন মাসের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে দ্বিতীয় ৫ হাজার টন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হলো। এর আগে, দেশটির প্রথম ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’ পশ্চিম সাগর বহরে কমিশন করা হয়েছিল।
পিয়ংইয়ং আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার টনের বেশি ওজনের দুটি বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ১০ হাজার টন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিম জং উনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া তার নৌবাহিনীকে আধুনিক ও পারমাণবিক সক্ষম করে তুলতে চায়।