বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলে কতটা সামরিক অবকাঠামো ও জনবল রাখা হবে, তা নিয়ে 'নীরবে আলোচনা চলছে'।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি হবে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন। গত কয়েক দশকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এ অঞ্চলে সামরিক সম্পৃক্ততা কমানোর কথা বললেও বিভিন্ন সংকটের কারণে বারবার সেখানে ফিরে যেতে হয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটির বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এসব স্থাপনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

हालांकि, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চলমান অনানুষ্ঠানিক আলোচনার একটি কারণ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ হলে কী ধরনের সামরিক উপস্থিতি মেনে নিতে পারেন তা অনুমান করা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

এছাড়া, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করবেন, তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এর মধ্যে কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি ভূগর্ভস্থ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে আসছে। তবে ইরানের হামলায় এসব স্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সমর বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আগামী বছর থেকেই মার্কিন সামরিক কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। তবে যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এখন যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর আলোচনা চলছে, তখনও ওয়াশিংটন ও তেহরান সংঘাতের অবসানের কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন