মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হতে পারে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে, যেখানে ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপে অংশগ্রহণে রাজি হয়েছে তেহরান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাব কমতে পারে এবং ইরানের অন্তর্ভুক্তিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে পারে। মক্কা চুক্তি প্রতিরক্ষা ছাড়াও আঞ্চলিক নতুন কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ইরানের সংসদীয় সংবাদসংস্থার প্রধান জানান, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এটি অংশগ্রহণের নয়, বরং নিরাপত্তা সংলাপের প্রস্তাব। ইরানের অন্তর্ভুক্তি চুক্তির চরিত্র পরিবর্তন করতে পারে, যা সৌদি-ইরান উত্তেজনা কমানো এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাব কমবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ার প্রবণতা বাড়বে। এই যুদ্ধে ইরানি হামলার ঝুঁকিতে পড়ার কারণে দেশগুলো বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।
ইরান যুক্ত হলে সংঘাত এড়ানো, তথ্য বিনিময় এবং নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামোর প্রয়োজন হবে। তবে, তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ে আলোচনা হবে, যা চুক্তির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
মক্কা চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও রয়েছে, যেখানে সৌদি আরবের পুঁজি, তুরস্কের সক্ষমতা, পাকিস্তানের বাজার এবং ইরানের জ্বালানি ও ট্রানজিটের সমন্বয়ে নতুন বাণিজ্য ও পরিবহন করিডোর তৈরি হতে পারে।
তবে ইসরায়েল এই পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তেহরানের অন্তর্ভুক্তি তেল আবিবকে কৌশলগতভাবে ঘেরাও করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সুতরাং, বর্তমানে মক্কা চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ব্যবস্থা বলা কঠিন। ইরানের অন্তর্ভুক্তিতে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়লেই কেবল নতুন কাঠামো পাবে মধ্যপ্রাচ্য।