আইরল্যান্ডের উইকলোতে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক মন্ত্রীরা ইসরায়েল ও ইউক্রেনের বিষয়ে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হয়েছেন। আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি মঙ্গলবার এই বৈঠকে বলেন, "আমরা একটি অচলাবস্থায় পৌঁছেছি।"
আইরল্যান্ড, যা বর্তমানে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করছে, এবং স্পেন পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপন্ন পণ্যের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ব্যাপী বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চাপ দিয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন-নোয়েল ব্যারট বলেন, "ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের নিন্দা একটি ভালো শুরু, তবে এটি যথেষ্ট নয়।"
কিছু ইউরোপীয় দেশ, যেমন জার্মানি ও হাঙ্গেরি, এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের সাথে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য করে, যা ইসরায়েলকে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আইরিশ সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অপরিহার্য। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছে।
ইউক্রেনের পরিস্থিতি বৈঠকের প্রথম দিনে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ইউরোপীয় মিডিয়ার কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়ে বলেন, সামরিক সহায়তার বিলম্বের ফলে গুরুতর মূল্য দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় মন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ইউরোপের জন্য সীমিত কূটনৈতিক প্রভাব ফেলছে।
বৈঠকের আগে ইতালি ভ্রমণে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা ইউরোপীয় মন্ত্রীরা আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছে।