ইসরায়েলের সরকারি বন্ড বিক্রি ও ইউরোপীয় বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পথ বন্ধ করার জন্য লুক্সেমবার্গ, আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে গাজায় চলমান 'গণহত্যায়' পরোক্ষভাবে সহযোগিতার ঝুঁকি তৈরি হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইউরোপবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক স্টিভ ককবার্ন বলেন, 'গণহত্যা, বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা (অ্যাপারথাইড) এবং অবৈধ দখলদারিত্বের অর্থায়নে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর ইসরায়েলের নির্ভরশীলতা ক্রমেই বাড়ছে।' তিনি আরও জানান, 'ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ চালিয়ে নিতেও এসব অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।'
স্টিভ ককবার্ন উল্লেখ করেন, 'ইসরায়েলি বন্ড সরকারের জন্য অতিরিক্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করে। ফলে অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার অর্থায়নেও তা ভূমিকা রাখছে।'
অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে সামরিক ব্যয় মেটাতে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সরকারি বন্ড ইস্যু বাড়িয়েছে। বর্তমানে এসব বন্ডের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করছে লুক্সেমবার্গ।
আগামী ৩১ আগস্ট, লুক্সেমবার্গে এ বন্ড কর্মসূচির বিদ্যমান প্রসপেক্টাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এ প্রেক্ষাপটে অ্যামনেস্টি লুক্সেমবার্গ সরকারের প্রতি এর নবায়ন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে।
স্টিভ ককবার্ন বলেন, 'ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে এসব বন্ড বিক্রির অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে বড় ধরনের নৈতিক ও আইনি দায় জড়িত। আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে বলছে, কোনো রাষ্ট্রই গণহত্যায় সহায়তা বা সহযোগিতা করতে পারে না।'
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।