শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনার প্রত্যাহার: নতুন সংকটের সূচনা?

মার্কিন সেনারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে, ইরানের চাপের কারণে নতুন সংকটের সূচনা।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনার প্রত্যাহার: নতুন সংকটের সূচনা?

ইরানের চাপের মুখে এবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক থেকে মার্কিন সেনার প্রত্যাহারে নতুন এক মোড় এসেছে। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল-জাইদি জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা চলে যাবে। এই সময়ে গ্লোবাল কোয়ালিশনের সামরিক মিশনও শেষ হবে। এর ফলে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।

মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তানে মার্কিন অবস্থানগুলো হামলার শিকার হচ্ছে, বিশেষ করে এরবিলে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার চাপ বেড়ে গেছে। যদিও ওয়াশিংটন জানাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেয়া হয়নি।

মার্কিন সেনা কমানোর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়তে চায়। সেনা কমবে, ঘাঁটি কমবে; তবে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ইরাকের সরকার অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রাখতে চায়, কিন্তু ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর শক্তি বিষয়টি জটিল করে তুলছে। মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা ভারসাম্য কিভাবে দাঁড়াবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন সেনাদের সংখ্যা একসময় ১ লাখ ৭০ হাজারের ওপর ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা কয়েক শতে নেমে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রত্যাহারকে আল-জাইদি ‘ফিক্সড অ্যান্ড ফাইনাল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে, প্রশ্ন উঠছে—আমেরিকা চলে গেলে এই কৌশলগত শূন্যস্থান কে পূরণ করবে? তেহরানের প্রভাব কি আরও বাড়বে? মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াই শেষ হয়নি, বরং নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন