মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

র‍্যাব বিলুপ্তি: এসআরবি বিল নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ

টিআইবি র‍্যাব বিলুপ্তির প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, নতুন বাহিনী এসআরবি গঠনে সম্ভাব্য জবাবদিহির অভাবের আশঙ্কা রয়েছে।

র‍্যাব বিলুপ্তি: এসআরবি বিল নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, র‍্যাব বিলুপ্তির পরিবর্তে নতুন নামে আরও ক্ষমতাবান ও কার্যত জবাবদিহিহীন একটি বাহিনীর আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে টিআইবি এ উদ্বেগ জানায়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এবং এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল টিআইবি। তবে শুধু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয় না।’

তিনি জানান, র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনার দাবি জানান। তা না হলে র‍্যাবের বদলে এসআরবি নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী তৈরি হবে, যা হবে পুরোনো প্রতিষ্ঠানের শুধু খোলস পরিবর্তন।

টিআইবি এসআরবিতে পুলিশ বাহিনীর বাইরে সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের বিধান থাকলে অভ্যন্তরীণ পুলিশিংয়ে সামরিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যাবে।

র‍্যাবের বর্তমান জনবলকে যাচাই-বাছাই ছাড়া এসআরবিতে স্থানান্তরের বিধান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। টিআইবির মতে, জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বিলে এসআরবিকে গোয়েন্দা নজরদারি, অভিযান, তল্লাশি, সাধারণ তদন্তসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। বিশেষ করে ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা’ ও ‘সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব’-এর মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সংস্থাটি।

ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এসব অস্পষ্ট ক্ষমতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিলে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ এবং বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ রাখার বিধান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

টিআইবি এই অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তে পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানিয়েছে। এতে মানবাধিকার ও আইনবিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অভিযোগ তদন্তের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষাও বিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি মনে করে, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ সদস্য যাচাইপ্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে র‍্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।

বিজ্ঞাপন