বাংলাদেশ সরকার র্যাবকে বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন বাহিনীর খসড়ায় প্রতীক, পতাকা, পোশাক এবং কর্মবিধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে এসআরবি ভিন্নভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই জনগণের আস্থা ফিরে আসবে না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পাশাপাশি জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করা জরুরি। ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ দমনের লক্ষ্যে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য র্যাব গঠন করা হয়েছিল।
র্যাবের কর্মকাণ্ডে বিতর্কের কেন্দ্রে আসার পর, বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে, বাহিনীটি জনসমর্থন হারাতে শুরু করে। নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার এবং টেকনাফে ইকরাম হত্যার মতো ঘটনার কারণে র্যাবের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বেড়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশন র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। সাবেক র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে বাহিনীটির বিরুদ্ধে আস্থার সংকট তৈরি হয়।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাম পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। তারা স্থায়ী সদস্য নিয়োগ এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, “বাহিনীতে যারা কার্যকর, তাদের রাখা উচিত এবং অকার্যকরদের বাদ দেওয়া উচিত।”
এসআরবির খসড়া আইনে বাহিনীর পোশাক, লোগো এবং পতাকার বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, এসআরবি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবে।