রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা উচিত। আজ রোববার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল রাজনীতিবিদকে স্বাধীনভাবে নিজেদের মতাদর্শ প্রচার করতে হবে, তবে সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন সম্পর্কে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এবং আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে।
এছাড়া, তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা গঠিত হয়েছে এবং বিমানবন্দরের দাবিও পূরণ হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, 'ঠাকুরগাঁও পিছিয়ে পড়া, আমরা দাবি করতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছিল, এখন সব কিছু হয়ে গেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিমানবন্দর হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে, তবে এটি চালু রাখতে কলকারখানা বাড়াতে হবে। আশা করছি, কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের আনা সম্ভব হবে।'
রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে এবং শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। তিনি হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বসহ সকল ধরনের হানাহানি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'ঠাকুরগাঁওয়ে কোন সংঘাত রাখতে চাই না। সকল রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান, আপনারা নিজেদের মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু সংঘাতে জড়াবেন না।'
রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'বাংলাদেশে সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। নতুন প্রজন্ম লেখাপড়া শেষ করে যেন চাকরি পায়।'
তিনি জেলাবাসীকে চাকরি ও ঠিকাদারির পেছনে না দৌড়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করারও আহ্বান জানান এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে বলেন।
সবশেষে তিনি বলেন, 'আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।'