বাংলাদেশে নদী ও খালের পাড় রক্ষায় সরকার দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে, এসব জলাধারের পাড় দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে সুরক্ষা করা যাবে, সে প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচলিতভাবে পাড় রক্ষায় রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। তবে, এবার আলোচনায় এসেছে একটি উদ্ভিদ—বিন্না ঘাস, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ভেটিভার। সম্প্রতি সচিবালয়ে সড়ক ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিন্না ঘাসের বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopogon zizanioides এবং এটি স্থানীয়ভাবে বেন্না ঘাস, খসখস বা ছন নামে পরিচিত। এর শিকড় মাটির দুই থেকে চার মিটার গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং একটি প্রাকৃতিক জালের মতো মাটির স্তরগুলোকে একত্রিত রাখে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিন্না ঘাসের শিকড়যুক্ত মাটির গড় সহনশীলতা শিকড়বিহীন মাটির তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি। এটি মাটির চাপ ও নড়াচড়ার বিপরীতে সহনশীলতা বাড়ায়।
কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা বিন্না ঘাসের ৭ বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভারী বর্ষণের সময়ও এটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হয়নি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবল স্রোত বা ঢেউয়ের ধাক্কা সামলানোর জন্য বিন্না ঘাসের কার্যকারিতা সীমিত।
বিজ্ঞানের আলোকে, যদিও বিন্না ঘাস মাটির উপরিভাগে ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর, তবে নদীর তীব্র জলস্রোতের আঘাত সহ্য করার মতো কাঠামোগত শক্তি এতে নেই।