খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে লাল-বুক বা মদনা টিয়ার একটি বিশাল অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। বন বিভাগের কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষিত পরিবেশের কারণে গত এক দশক ধরে এখানে হাজারো টিয়া স্থায়ী আবাসন তৈরি করেছে।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে টিয়াদের ডানা মেলার উচ্ছ্বাস শুরু হয়। লাল-বুক টিয়াগুলোর সবুজ দেহ, লাল বুক ও হলুদ ডানার মিশ্রণ একটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে।
বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটির সংগঠক সাথোয়াই মারমা জানান, "প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টিয়ার অবদান অনবদ্য। পাহাড়ের বন থেকে পাখি যখন বিলুপ্তির পথে, তখন লোকালয়ে তাদের নিরাপদ বসবাসে সবাই মুগ্ধ।" তিনি অভয়ারণ্যটি চিরস্থায়ী করতে বিভিন্ন ফলদ গাছ রোপণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, "টিয়াদের নিরাপদ প্রজনন ও খাদ্যের যোগান দিতে বন বিভাগ নানা উদ্যোগ ও নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েছে।" ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে লাল-বুক টিয়া সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃত। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বিত উদ্যোগেই পাহাড়ের বিরল লাল-বুক টিয়াদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।