বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া বাঘিনী মুক্তিরাণির নজরদারির চ্যালেঞ্জ

সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া বাঘিনী মুক্তিরাণি নজরদারিতে চ্যালেঞ্জের মুখে। গবেষকরা তথ্য সংগ্রহে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া বাঘিনী মুক্তিরাণির নজরদারির চ্যালেঞ্জ

সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া বাঘিনী মুক্তিরাণিকে নজরদারিতে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বন্যপ্রাণী গবেষকরা জানিয়েছেন, রেডিও কলার ক্যামেরা না থাকায় বাঘটির অবস্থান ও আচরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

গবেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী মুক্তিরাণীকে অবমুক্ত করা হয়নি, বরং তাকে অন্ধকারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুইশ দিন পর সুন্দরবনে ফিরে আসার পর বাঘিনীটি খাঁচা থেকে নামার সময় টলোমলো ছিল এবং শরীরে চেতনানাশক ওষুধের প্রভাব তখনো ছিল।

১২ জুলাই ভোরে খুলনা থেকে মুক্তিরাণীকে অচেতন করে মোংলায় আনা হয়। মুক্তির পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গবেষকরা বনের ভেতর পরিদর্শনে যান এবং বাঘটির পায়ের ছাপ দেখে বিশটি ক্যামেরা বসান। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘীনি শুরুর দিকে দুর্বল হলেও পরে তার চলৎশক্তি ফিরে এসেছে এবং প্রায় দেড় শ মিটার পথ হেঁটেছে।

বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান বলেন, “অসুস্থ বাঘটিকে সুস্থ করে সুন্দরবনের উন্মুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সকলের চেষ্টা আমাদের সফল করেছে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, “সুস্থ বাঘটিকে এখন প্রকৃতিতে বিচরণ ও শিকার করতে হবে। আমরা আশা করি, বাঘটি সুস্থভাবে সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, মুক্তিরাণী জানুয়ারিতে সুন্দরবনের বৈদ্যমারি এলাকায় হরিণ শিকারীদের ফাঁদে আটকা পড়ে এবং উদ্ধারের পর ছয় মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন