হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালিয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই হামলার উদ্দেশ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে, যা প্রণালির অবরোধের অংশ। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেশম দ্বীপের কাছে এবং বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় আঘাত হেনেছে। উল্লেখ্য, বুশেহরে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত।
হরমুজগান প্রদেশে দুটি সেতুতে আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় ফিরে না আসলে তাদের সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের অংশ হিসেবে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন মেরিন সেনারা প্রবেশ করেছে। তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুনের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরে নয়টি জাহাজ অকার্যকর করেছে এবং ১৪০টিরও বেশি জাহাজকে ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করেছে। নতুন সংঘাত যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে এখনও আগ্রহী। তবে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হেনেছে।
মার্কিন বাহিনী ছয় ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ জানিয়েছেন, তেহরানের কোনো উপকারে আসে না এমন চুক্তি মেনে চলার কোনো কারণ নেই।