হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
ব্রেন্ট ক্রুডের সেপ্টেম্বর সরবরাহের ফিউচার মূল্য সোমবার গ্রিনিচ সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৬ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ। এই প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমাতে ইরানের ওপর তারা কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, ইরানি বাহিনী সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি-তে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, 'হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই।' তারা ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।
ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যেখানে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের অবস্থান কঠোর হয়েছে। ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানায়, অনুমোদনহীন পথে চলাচলের কারণে যে কোনো ধরনের পরিণতির দায় জাহাজের মালিক ও অধিনায়কের ওপর বর্তাবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্বাক্ষরের পর সামুদ্রিক চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল, তবে নতুন সংঘাতের কারণে আবারও তা কমে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার তেল বিশ্লেষক মুকেশ সাহদেভ মনে করছেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের শেষ ভাগে থাকতে পারে।
এদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারেও নতুন সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২ শতাংশের বেশি কমেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৮ শতাংশের বেশি নেমে গেছে।